🌹উচ্চমাধ্যমিক সংস্কৃত::3rd Semester::যোগঃ কর্মসু কৌশলম্-মহর্ষি ব্যাসদেব:: বঙ্গানুবাদ ও শব্দার্থ।🌹




◼️ ১. শ্লোক

দেবনাগরী হরফে:
कर्मेन्द्रियाणि संयम्य य आस्ते मनसा स्मरन् ।
इन्द्रियार्थान विमूढात्मा मिथ्याचारः स उच्यते ॥

বাংলা হরফে:
কর্মেন্দ্রিয়াণি সংযম্য য আস্তে মনসা স্মরন্।
ইন্দ্রিয়ার্থান্ বিমূঢ়াত্মা মিথ্যাচারঃ স উচ্যতে।

সহজ বাংলায় অনুবাদ:
যে ব্যক্তি বাহ্য কর্মেন্দ্রিয়গুলিকে নিয়ন্ত্রণ করেও মনে মনে ইন্দ্রিয়ভোগের চিন্তা করে, সেই বিভ্রান্ত আত্মা মিথ্যাচারী বলে পরিচিত।

শব্দার্থ (সন্ধিবদ্ধ বিশ্লেষণ):

  • কর্ম-ইন্দ্রিয়াণি = কর্মে ব্যবহৃত ইন্দ্রিয় (হাত, পা, মুখ প্রভৃতি)

  • সংযম্য = নিয়ন্ত্রণ করে

  • যঃ = যে

  • আস্তে = বসবাস করে, অবস্থান করে

  • মনসা = মনে

  • স্মরন্ = স্মরণ করতে করতে

  • ইন্দ্রিয়-অর্থান্ = ইন্দ্রিয়-গ্রাহ্য বিষয়বস্তু

  • বিমূঢ়-আত্মা = মূঢ় বা বিভ্রান্ত আত্মাসম্পন্ন ব্যক্তি

  • মিথ্যা-আচারঃ = মিথ্যা আচরণকারী

  • সঃ = সে

  • উচ্যতে = বলা হয়


◼️ ২. শ্লোক

দেবনাগরী হরফে:
कर्मब्रह्मोद्भवं विद्धि ब्रह्माक्षरसमुद्भवम् ।
तस्मात् सर्वगतं ब्रह्म नित्यं यज्ञे प्रतिष्ठितम् ॥

বাংলা হরফে:
কর্মব্রহ্মোদ্ভবং বিদ্ধি ব্রহ্মাক্ষরসমুদ্ভবম্।
তস্মাৎ সর্বগতং ব্রহ্ম নিত্যং যজ্ঞে প্রতিষ্ঠিতম্।

সহজ বাংলায় অনুবাদ:
জেনে রাখো, কর্ম ব্রহ্ম (বেদ) থেকে উদ্ভূত এবং ব্রহ্ম সেই অক্ষর ব্রহ্ম (পরমাত্মা) থেকে উদ্ভূত। অতএব সর্বব্যাপী ব্রহ্ম সর্বদা যজ্ঞে প্রতিষ্ঠিত।

শব্দার্থ (সন্ধিবদ্ধ বিশ্লেষণ):

  • কর্ম-ব্রহ্ম-উদ্ভবম্ = কর্ম ব্রহ্ম (বেদ) থেকে উৎপন্ন

  • বিদ্ধি = জানো

  • ব্রহ্ম-অক্ষর-সমুদ্ভবম্ = ব্রহ্ম সেই অক্ষর ব্রহ্ম থেকে উৎপন্ন

  • তস্মাত্ = অতএব

  • সর্ব-গতং = সর্বত্র বিরাজমান

  • ব্রহ্ম = পরমাত্মা / সর্বব্যাপী চেতনা

  • নিত্যং = সর্বদা

  • যজ্ঞে প্রতিষ্ঠিতম্ = যজ্ঞে প্রতিষ্ঠিত


◼️ ৩. শ্লোক

দেবনাগরী হরফে:
ब्रह्मार्पणं ब्रह्महविर्ब्रह्माग्नौ ब्रह्मणाहुतम्।
ब्रह्मैव तेन गन्तव्यं ब्रह्मकर्मसमाधिना ॥

বাংলা হরফে:
ব্রহ্মার্পণং ব্রহ্মহবির্ব্রহ্মাগ্নৌ ব্রহ্মণাহুতম্।
ব্রহ্মৈব তেন গন্তব্যং ব্রহ্মকর্মসমাধিনা।

সহজ বাংলায় অনুবাদ:
অর্পণ ব্রহ্ম, আহুতি ব্রহ্ম, অগ্নি ব্রহ্ম, এবং হোমকৃত কর্মও ব্রহ্ম। এমন ব্রহ্মময় কর্মে একাগ্র ব্যক্তি অবশেষে ব্রহ্মতাত্ত্বিক গন্তব্যে পৌঁছান।

শব্দার্থ (সন্ধিবদ্ধ বিশ্লেষণ):

  • ব্রহ্ম-আৰ্পণম্ = যজ্ঞে নিবেদন ব্রহ্ম

  • ব্রহ্ম-হবিঃ = যজ্ঞীয় দ্রব্য ব্রহ্ম

  • ব্রহ্ম-অগ্নৌ = ব্রহ্মস্বরূপ অগ্নিতে

  • ব্রহ্মণা-আহুতম্ = ব্রহ্মরূপ কর্তৃক উৎসর্গিত

  • ব্রহ্ম-ঐব = ব্রহ্মই

  • তেন = সেই ব্যক্তির দ্বারা

  • গন্তব্যং = প্রাপ্তব্য গন্তব্য

  • ব্রহ্ম-কর্ম-সমাধিনা = ব্রহ্মময় কর্মে একাগ্র ব্যক্তির দ্বারা


◼️ ৪. শ্লোক

দেবনাগরী হরফে:
तद् विद्धि प्रणिपातेन परिप्रश्नेन सेवया।
उपदेक्ष्यन्ति ते ज्ञानं ज्ञानिनस्तत्त्वदर्शिनः॥

বাংলা হরফে:
তদ্ বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া।
উপদেক্ষ্যন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ।

সহজ বাংলায় অনুবাদ:
প্রণিপাত, প্রশ্ন ও সেবার মাধ্যমে জ্ঞানীদের নিকট থেকে সেই জ্ঞান গ্রহণ করো। তত্ত্বদর্শী জ্ঞানীগণ তোমাকে সেই জ্ঞানের উপদেশ দেবেন।

শব্দার্থ (সন্ধিবদ্ধ বিশ্লেষণ):

  • তৎ = সেই (জ্ঞান)

  • বিদ্ধি = জানো

  • প্রণিপাতেন = বিনম্রভাবে আত্মসমর্পণ করে

  • পরিপ্রশ্নেন = যথাযথভাবে প্রশ্ন করে

  • সেবয়া = সেবার মাধ্যমে

  • উপদেক্ষ্যন্তি = উপদেশ দেবেন

  • তে = তোমাকে

  • জ্ঞানং = জ্ঞান

  • জ্ঞানিনঃ = জ্ঞানী ব্যক্তিরা

  • তত্ত্ব-দর্শিনঃ = তত্ত্ব বা পরম সত্য দর্শনকারী


◼️ ৫. শ্লোক

দেবনাগরী হরফে:
न हि ज्ञानेन सदृशं पवित्रमिह विद्यते।
तत् स्वयं योगसंसिद्धः कालेनात्मनि विन्दति॥

বাংলা হরফে:
ন হি জ্ঞানেন সদৃশং পবিত্রমিহ বিদ্যতে।
তৎ স্বয়ং যোগসংসিদ্ধঃ কালেনাত্মনি বিন্দতি।

সহজ বাংলায় অনুবাদ:
এই জগতে জ্ঞানের সমতুল্য কিছুই পবিত্র নয়। যোগে সিদ্ধ ব্যক্তি যথাসময়ে নিজ আত্মার মধ্যে সেই জ্ঞান অনুভব করেন।

শব্দার্থ (সন্ধিবদ্ধ বিশ্লেষণ):

  • ন হি = নিশ্চয়ই নয়

  • জ্ঞানেন সদৃশং = জ্ঞানের সমতুল্য

  • পবিত্রম্ = পবিত্র

  • ইহ বিদ্যতে = এই জগতে বিদ্যমান

  • তৎ = সেই (জ্ঞান)

  • স্বয়ং = নিজে

  • যোগ-সংসিদ্ধঃ = যোগে সিদ্ধ ব্যক্তি

  • কালেন = সময়ের সঙ্গে সঙ্গে

  • আত্মনি = নিজের আত্মায়

  • বিন্দতি = লাভ করেন / উপলব্ধি করেন


◼️ ৬. শ্লোক

দেবনাগরী হরফে:
श्रद्धावान् लभते ज्ञानं तत्परः संयतेन्द्रियः।
ज्ञानं लब्ध्वा परां शान्तिमचिरेणाधिगच्छति॥

বাংলা হরফে:
শ্রদ্ধাবান্ লভতে জ্ঞানং তৎপরঃ সংযতেন্দ্রিয়ঃ।
জ্ঞানং লভত্বা পরাং শান্তিমচিরেণাধিগচ্ছতি।

সহজ বাংলায় অনুবাদ:
যিনি শ্রদ্ধাশীল, যাঁর ইন্দ্রিয় সংযত এবং যিনি সেই জ্ঞানে নিয়োজিত, তিনি জ্ঞান লাভ করেন এবং তৎপরপরি পরম শান্তি অচিরেই অর্জন করেন।

শব্দার্থ (সন্ধিবদ্ধ বিশ্লেষণ):

  • শ্রদ্ধাবান্ = শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি

  • লভতে জ্ঞানং = জ্ঞান লাভ করেন

  • তৎপরঃ = তাতে নিয়োজিত

  • সংযত-ইন্দ্রিয়ঃ = সংযমিত ইন্দ্রিয়যুক্ত

  • জ্ঞানং লভত্বা = জ্ঞান লাভ করে

  • পরাং শান্তিম্ = পরম শান্তি

  • অচিরেণ = অচিরেই

  • অধিগচ্ছতি = অর্জন করেন


◼️ ৭. শ্লোক

দেবনাগরী হরফে:
यद् यदाचरति श्रेष्ठस्तत्तदेवेतरो जनः।
स यत् प्रमाणं कुरुते लोकस्तदनुवर्तते॥

বাংলা হরফে:
যদ্ যদাচরতি শ্রেষ্ঠস্তত্তদেবেতরো জনঃ।
স যৎ প্রমাণং কুরুতে লোকস্তদনুবর্ত্ততে।

সহজ বাংলায় অনুবাদ:
শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি যা কিছু করেন, সাধারণ মানুষ ঠিক সেটাই অনুসরণ করে। তিনি যা আদর্শ স্থাপন করেন, সমাজ তা-ই অনুসরণ করে।

শব্দার্থ (সন্ধিবদ্ধ বিশ্লেষণ):

  • যৎ যৎ আচরতি = যা যা আচরণ করেন

  • শ্রেষ্ঠঃ = শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি

  • তৎ তৎ = সেই সেই (আচরণ)

  • এব = অবশ্যই

  • ইতরঃ জনঃ = অন্যান্য লোকজন

  • সঃ = তিনি

  • যৎ প্রমাণং = যা আদর্শ/মান

  • কুরুতে = স্থাপন করেন

  • লোকঃ = সমাজ/মানুষ

  • তদ্ অনুবর্ত্ততে = তা-ই অনুসরণ করে


◼️ ৮. শ্লোক

দেবনাগরী হরফে:
इन्द्रियाणि मनोबुद्धिरस्याधिष्ठानमुच्यते।
एतै विमोहयत्येष ज्ञानमावृत्य देहिनम्॥

বাংলা হরফে:
ইন্দ্রিয়াণি মনোবুদ্ধিরস্যাধিষ্ঠানমুচ্যতে।
এতৈ বিমোহয়ত্যেষ জ্ঞানমাবৃত্য দেহিনম্।

সহজ বাংলায় অনুবাদ:
ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধিই কামনাপূরণের আধার। এইগুলোর দ্বারা কাম ব্যক্তি বিশেষের জ্ঞানকে আচ্ছন্ন করে এবং তাকে বিভ্রান্ত করে।

শব্দার্থ (সন্ধিবদ্ধ বিশ্লেষণ):

  • ইন্দ্রিয়াণি = ইন্দ্রিয়সমূহ

  • মনঃ = মন

  • বুদ্ধিঃ = বুদ্ধি

  • অস্য = এর (কামের)

  • আধিষ্ঠানম্ = আসন বা আধার

  • এতৈঃ = এইগুলোর দ্বারা

  • বিমোহয়তি = মোহগ্রস্ত করে

  • এষঃ = এই কাম

  • জ্ঞানম্ = জ্ঞান

  • আবৃত্য = আচ্ছন্ন করে

  • দেহিনম্ = দেহধারী আত্মাকে


◼️ ৯. শ্লোক

দেবনাগরী হরফে:
इन्द्रियाणि पराण्याहुरिन्द्रियेभ्यः परं मनः।
मनसस्तु परा बुद्धिर्योबुद्धे परतस्तु सः॥

বাংলা হরফে:
ইন্দ্রিয়াণি পরাণ্যাহুরিন্দ্রিয়েভ্যঃ পরং মনঃ।
মনসস্তু পরা বুদ্ধির্যোবুদ্ধে পরতত্ত্ব সঃ।

সহজ বাংলায় অনুবাদ:
ইন্দ্রিয়সমূহ দেহের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, মন ইন্দ্রিয়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, বুদ্ধি মনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, এবং আত্মা বুদ্ধিরও ঊর্ধ্বে।

শব্দার্থ (সন্ধিবদ্ধ বিশ্লেষণ):

  • ইন্দ্রিয়াণি = ইন্দ্রিয়সমূহ

  • পরাণি = শ্রেষ্ঠ

  • আহুঃ = বলা হয়েছে

  • ইন্দ্রিয়েভ্যঃ = ইন্দ্রিয়গুলোর চেয়ে

  • পরং মনঃ = মন শ্রেষ্ঠ

  • মনসঃ তু পরা বুদ্ধিঃ = মনের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বুদ্ধি

  • যঃ = যিনি

  • বুদ্ধে পরতঃ = বুদ্ধির ঊর্ধ্বে

  • সঃ = তিনিই
    (অর্থাৎ আত্মা)


◼️ ১০. শ্লোক

দেবনাগরী হরফে:
यस्य सर्वे समारम्भाः कामसंकल्पवर्जिताः ।
ज्ञानाग्निदग्धकर्माणं तमाहुः पण्डितं बुधाः॥

বাংলা হরফে:
যস্য সর্বে সমারম্ভাঃ কামসংকল্পবর্জিতাঃ।
জ্ঞানাগ্নিদগ্ধকর্মাণং তমাহুঃ পণ্ডিতং বুধাঃ।

সহজ বাংলায় অনুবাদ:
যাঁর সমস্ত কর্ম কামনা-সংকল্পবর্জিত এবং যাঁর কর্মসমূহ জ্ঞানের অগ্নিতে দগ্ধ, তাঁকেই জ্ঞানীরা পণ্ডিত বলে আখ্যা দেন।

শব্দার্থ (সন্ধিবদ্ধ বিশ্লেষণ):

  • যস্য = যাঁর

  • সর্বে সমারম্ভাঃ = সমস্ত কর্ম উদ্যোগ

  • কাম-সংকল্প-বর্জিতাঃ = কামনা ও সংকল্প থেকে মুক্ত

  • জ্ঞান-অগ্নি-দগ্ধ-কর্মাণং = জ্ঞানের অগ্নিতে দগ্ধ কর্মসমূহ যাঁর

  • তম্ = তাঁকে

  • আহুঃ = বলা হয়

  • পণ্ডিতং = পণ্ডিত

  • বুধাঃ = জ্ঞানী ব্যক্তিরা




শ্লোক ১–১০ এর সারমর্ম (সহজ বাংলায়)

১.
কেবল বাহ্য ইন্দ্রিয়কে সংযত করলেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ হয় না।
যদি কেউ বাহ্য কর্ম (যেমন কাজ, কথা) বন্ধ করেও মনে মনে ইন্দ্রিয়সুখ বা ভোগের চিন্তা করে, তাহলে সে ধোঁকাবাজ ও মিথ্যাচারী। প্রকৃত সংযম হল মনে ও ইন্দ্রিয়ে একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ।

২.
সমস্ত কর্মই সৃষ্টি হয়েছে বেদ বা ব্রহ্ম থেকে, আর সেই ব্রহ্ম উদ্ভূত হয়েছে পরমাত্মা থেকে।
তাই, যজ্ঞ বা নিঃস্বার্থ কর্মই সেই সর্বব্যাপী ব্রহ্মের প্রকৃত স্থানে পরিণত হয়। যজ্ঞ অর্থাৎ পরোপকারী কাজই জীবনের সত্য পথ।

৩.
যে মানুষ ব্রহ্মজ্ঞানে একাগ্র, সে নিজের সমস্ত কাজকেই ব্রহ্ম হিসেবে দেখে।
অর্থাৎ তার জন্য যজ্ঞের সামগ্রী, যজ্ঞকারী, অগ্নি ও যজ্ঞের আহুতি—সবই ব্রহ্ম। এরকম দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই প্রকৃত আত্মসাধনা শুরু হয়।

৪.
যে জ্ঞান লাভ করতে চায়, সে যেন বিনীতভাবে জ্ঞানীদের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করে এবং সেবা করে।
তারা তত্ত্বদর্শী এবং হৃদয় থেকে জ্ঞান দেয়। এটা গুরু-শিষ্য পরম্পরার মূল ভিত্তি।

৫.
এই পৃথিবীতে জ্ঞানের সমতুল্য কিছুই পবিত্র নয়।
যিনি যোগসাধনায় সিদ্ধ, তিনি নিজের অভিজ্ঞতায় উপযুক্ত সময়ে সেই জ্ঞান নিজের হৃদয়ে উপলব্ধি করেন।

৬.
শ্রদ্ধাশীল, সংযমী ও জ্ঞানে নিবেদিত ব্যক্তি নিশ্চয়ই জ্ঞান অর্জন করে।
আর সেই জ্ঞান তাঁকে দ্রুত পরম শান্তিতে পৌঁছে দেয়। জ্ঞান মানেই মুক্তি ও প্রশান্তি।

৭.
শ্রেষ্ঠ মানুষ যা করেন, সাধারণ লোকেরা তা-ই অনুসরণ করে।
তিনি যে মানদণ্ড স্থাপন করেন, সমাজ সেটাকেই আদর্শ ভাবে। তাই নেতৃত্বের দায়িত্ব গুরুতর।

৮.
ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধি কামনার আশ্রয়।
এই কামনা এই তিনটির মাধ্যমে ব্যক্তির জ্ঞান ঢেকে দেয় এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করে তোলে। তাই এগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

৯.
ইন্দ্রিয় দেহের চেয়ে শক্তিশালী, মন ইন্দ্রিয়ের চেয়ে শক্তিশালী, বুদ্ধি মনের চেয়ে এবং আত্মা বুদ্ধির চেয়েও শ্রেষ্ঠ।
এই ধাপে ধাপে উন্নত উপলব্ধি আমাদের নিজের প্রকৃত সত্তা—আত্মার সন্ধান দেয়।

১০.
যে ব্যক্তি সমস্ত কাজ কামনা ও সংকল্প ছাড়াই করেন, এবং যাঁর কর্মসমূহ জ্ঞানের অগ্নিতে দগ্ধ হয়েছে, তিনিই প্রকৃত পণ্ডিত।
এমন ব্যক্তিই মুক্ত ও জ্ঞানী, যাঁর কাজ ফলের প্রতি আসক্তি থেকে মুক্ত।


<<<<<<<<<<<<<<<🌹সমাপ্ত🌹>>>>>>>>>>>>


Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.