🌹উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস প্রশ্নোত্তর::4th Semester::অধ্যায়-৩::সংগঠিত জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থান:প্রাক্ ১৯১৭ ও উত্তর ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত।🌹


️প্রশ্নের মান-৩/৪:

📝 ১. লাল–বাল–পাল স্মরণীয় কেন?

উত্তর:
লাল–বাল–পাল ছিল ১৯০৬ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত এক প্রতিরোধী, দেশপ্রেমিক যুব সংগঠন। এটি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রারম্ভিক ও প্রভাবশালী সংগঠন হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয়। যুবকদের মধ্যে দেশপ্রেম ও সামরিক প্রতিরোধ চেতনা জাগানোর জন্য এটি গঠন করা হয়।

🔹 ১. প্রতিষ্ঠা ও উদ্দেশ্য (Formation and Objective):
লাল–বাল–পাল প্রতিষ্ঠা করা হয় আনন্দকুমার ব্যানার্জী, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রমুখের নেতৃত্বে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি ও প্রয়োজনে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।

🔹 ২. কার্যক্রম (Activities):
সংগঠনটি ছাত্র ও যুবকদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও সামরিক প্রশিক্ষণ ছড়িয়ে দেয়। তারা স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য গোপন সভা, প্রয়োজনীয় সামরিক প্রশিক্ষণ এবং বিপ্লবী প্রচারণা পরিচালনা করত।

🔹 ৩. সাহস ও আত্মত্যাগ (Courage and Sacrifice):
লাল–বাল–পালের সদস্যরা বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিত। তাদের মধ্যে অনেকেই গ্রেফতার, কারাদণ্ড ও মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাদের বীরত্ব যুব সমাজকে প্রেরণা যুগিয়েছে।

🔹 ৪. প্রভাব ও গুরুত্ব (Impact and Significance):
লাল–বাল–পাল ভারতীয় যুব সমাজে দেশপ্রেম ও স্বাধীনতা চেতনা জাগ্রত করে। এটি পরবর্তী বিপ্লবী আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করে এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে একটি প্রতীকী অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয়।

📝 ২. ক্ষুদিরাম বসু কেন স্মরণীয়?

অথবা, বাংলায় বিপ্লবী আন্দোলনে ক্ষুদিরাম বসুর অবদান লেখো।

উত্তর:
ক্ষুদিরাম বসু ছিলেন ভারতের প্রারম্ভিক ও সাহসী বিপ্লবী, যিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের জন্য ইতিহাসে স্মরণীয়। তিনি খুব কম বয়সে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে অংশ নেন এবং বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনে এক সাহসী প্রতীক হয়ে ওঠেন।

🔹 ১. প্রারম্ভিক জীবন ও বিপ্লবে প্রবেশ (Early Life and Entry into Revolution):
ক্ষুদিরাম বসু জন্ম নেন ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে। অল্প বয়স থেকেই তিনি ব্রিটিশ শাসনের প্রতি ক্ষোভ অনুভব করেন। তিনি বর্ধমান ও কলকাতার বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন।

🔹 ২. প্রধান বিপ্লবী কর্মকাণ্ড (Major Revolutionary Activities):
তিনি ১৯০৮ সালে রাজা রামমোহন রায়-র হত্যার চেষ্টা করা জেলিয়ের ঘটনা ও প্রখ্যাত পুলিশ অফিসার পটসন হত্যার অভিযানে অংশ নেন। ক্ষুদিরাম বালকের বীরত্ব ও সাহসের জন্য পরিচিত হন।

🔹 ৩. আত্মত্যাগ ও মৃত্য (Sacrifice and Martyrdom):
গ্রেফতার হওয়ার পর আদালতে তিনি সাহসী মনোভাব দেখান। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯০৮ সালে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হন। তার সাহস ও আত্মত্যাগ বাংলা যুব সমাজের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।

🔹 ৪. প্রভাব ও গুরুত্ব (Impact and Significance):
ক্ষুদিরাম বসুর সাহসী কর্মকাণ্ড বাংলায় বিপ্লবী আন্দোলনের জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়। তার বীরত্ব যুব সমাজকে বিপ্লবী চেতনা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। তাই তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অমর বিপ্লবী হিসেবে স্মরণীয়।

📝 ৩. ভারতের বৈপ্লবিক জাতীয়তাবাদের জনক কাকে, কেন আখ্যা দেওয়া হয়?

অথবা, মহারাষ্ট্রের বিপ্লবী আন্দোলনে বাসুদেব বলবন্ত ফালকের ভূমিকা লেখো।

উত্তর:
বাসুদেব বলবন্ত ফালক ছিলেন ১৯শ শতকের এক প্রভাবশালী মহারাষ্ট্রী বিপ্লবী ও শিক্ষাবিদ। তাঁকে ভারতের বৈপ্লবিক জাতীয়তাবাদের জনক বলা হয়, কারণ তিনি দেশপ্রেম ও স্বাধিকারচেতনা ছড়িয়ে যুব সমাজকে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকে প্রেরণা দেন।

🔹 ১. প্রারম্ভিক জীবন ও রাজনৈতিক সচেতনতা (Early Life and Political Awareness):
বাসুদেব ফালক জন্মগ্রহণ করেন মহারাষ্ট্রে। কম বয়স থেকেই তিনি ব্রিটিশ শাসনের অবিচার এবং দেশের সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে সচেতন হন। তিনি দেশপ্রেমিক ও শিক্ষানুরাগী ছিলেন।

🔹 ২. বিপ্লবী আন্দোলনে ভূমিকা (Role in Revolutionary Movement):
তিনি মহারাষ্ট্রে বিপ্লবী চেতনা ছড়িয়ে দেন। যুব সমাজকে সংগঠিত করে ব্রিটিশ বিরোধী লুকানো সভা ও শিক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করেন। তার প্রচেষ্টায় যুবকদের মধ্যে দেশপ্রেম ও স্বাধিকারচেতনায় উজ্জীবিত করা হয়।

🔹 ৩. বৈপ্লবিক চিন্তাধারা প্রচার (Promotion of Revolutionary Ideas):
বাসুদেব ফালক স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য সাহসী ও সক্রিয় মনোভাবের শিক্ষা দিয়ে যুব সমাজকে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের জন্য প্রস্তুত করেন। তিনি বৈপ্লবিক চিন্তাধারাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিস্তার করেন।

🔹 ৪. প্রভাব ও স্মরণীয়তা (Impact and Legacy):
ফালকের উদ্যোগ ও সাহস মহারাষ্ট্রের যুব সমাজকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে উৎসাহিত করে। তাকে ভারতের বৈপ্লবিক জাতীয়তাবাদের জনক আখ্যা দেওয়া হয়, কারণ তার কর্মকাণ্ড পরবর্তী স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করে।

📝 ৪. জাতীয় কংগ্রেসের সুরাট অধিবেশন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত টীকা।

উত্তর:
সুরাট অধিবেশন (১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ) ছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত অধিবেশন। এই অধিবেশনে কংগ্রেসের দুই প্রধান ধারা—অভিন্নবাদী (Moderates)অকপট বিপ্লবী বা চরমপন্থী (Extremists/ Radicals)—এর মধ্যে গভীর মতভেদ প্রকাশ পায়।

🔹 ১. অবস্থান ও বৈঠকের পটভূমি (Background and Venue):
সুরাট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ব্রিটিশ ভারতের গুজরাট প্রদেশের সুরাটে। এটি হলো কংগ্রেসের রাজনৈতিক দিকনির্ধারণ ও নেতৃত্ব পুনর্নির্ধারণের একটি মোড়।

🔹 ২. মূল বিতর্ক (Main Dispute):
অধিবেশনে লক্ষ্মীনারায়ণ, বাল গঙ্গাধর tilক ও অন্যান্য চরমপন্থীরা কংগ্রেসের নীতিকে কঠোর করে স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চাইছিলেন। অন্যদিকে মহেন্দ্রলাল মুখোপাধ্যায় ও মৃদুপন্থীরা শান্তিপূর্ণ নীতির পক্ষে ছিলেন।

🔹 ৩. বিভাজন ও প্রভাব (Division and Impact):
এই অধিবেশনের ফলে কংগ্রেস অভিন্নবাদী ও চরমপন্থী শাখায় বিভক্ত হয়। চরমপন্থীরা স্বরাজ ও স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য সক্রিয় প্রতিরোধক কর্মসূচি গ্রহণে মনোযোগী হয়।

🔹 ৪. ঐতিহাসিক গুরুত্ব (Historical Significance):
সুরাট অধিবেশন কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক দিকনির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ সংগ্রামের পথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত। এটি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে নতুন কৌশল ও উদ্যোগের সূচনা ঘটায়।

📝 ৫. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় ‘হিউম–ডাফরিন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ সম্পর্কে যা জানো, লেখো।

উত্তর:
‘হিউম–ডাফরিন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ ছিল ব্রিটিশ সমালোচক ও ইতিহাসবিদদের ধারণা, যা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে উত্থাপিত হয়। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, ব্রিটিশ সরকার স্বয়ং কংগ্রেসের সৃষ্টি তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করেছিল।

🔹 ১. তত্ত্বের প্রাথমিক ধারণা (Origin of the Theory):
১৮৮৫ সালে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পরে কিছু ইতিহাসবিদ ও সমালোচক দাবি করেন যে, লর্ড হিউম ও লর্ড ডাফরিন কংগ্রেস গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। তারা মূলত ব্রিটিশ শাসনকে সহায়ক এবং নিয়ন্ত্রিত কাঠামো হিসেবে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

🔹 ২. তত্ত্বের মূল বক্তব্য (Main Claim of the Theory):
তত্ত্ব অনুযায়ী কংগ্রেসকে এক ধরণের ‘নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক সংস্থা’ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে ভারতের রাজনৈতিক প্রগতিকে সীমিত রাখা যায়। ব্রিটিশরা মনে করেছিল, কংগ্রেসের মাধ্যমে তারা নাগরিকদের ক্ষুদ্র রাজনৈতিক চাহিদা মিটিয়ে বিপ্লবী আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

🔹 ৩. সমালোচনা ও বাস্তবতা (Criticism and Reality):
কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে যে কংগ্রেস ধীরে ধীরে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান শক্তি হয়ে ওঠে। তত্ত্বটি মূলত একটি ষড়যন্ত্রমূলক ধারণা ছিল; বাস্তবে কংগ্রেসের নেতারা স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ও জাতীয় লক্ষ্যে কাজ করেছিলেন।

🔹 ৪. ঐতিহাসিক গুরুত্ব (Historical Significance):
যদিও হিউম–ডাফরিন তত্ত্ব বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল, এটি দেখায় কিভাবে ব্রিটিশ শাসন ও ভারতের রাজনৈতিক প্রগতির সম্পর্ক সমালোচকদের দৃষ্টিতে প্রতিফলিত হয়েছিল। কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পর্বে এই তত্ত্ব রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য আলোচনার বিষয়।

উপসংহার:
সুতরাং, হিউম–ডাফরিন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাকে ঘিরে একটি বিতর্কিত ধারণা, কিন্তু বাস্তবে কংগ্রেস স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিণত হয়।

📝 ৬. ভারতের জাতীয় কংগ্রেসকে কেন ‘সেফটি ভালভ’ বলা হয়?

অথবা, সেফটি ভালভ তত্ত্ব কী, আলোচনা করো।

উত্তর:
সেফটি ভালভ তত্ত্ব হলো ব্রিটিশ শাসনামলের সময় ইতিহাসবিদ ও সমালোচকদের ধারণা, যা ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভূমিকাকে ব্যাখ্যা করে। তত্ত্ব অনুযায়ী, কংগ্রেসকে ব্রিটিশরা একটি নিয়ন্ত্রিত সংস্থা বা ‘সেফটি ভালভ’ হিসেবে ব্যবহার করেছিল, যাতে ভারতীয় জনসমাজের রাজনৈতিক ক্ষোভ ও অসন্তোষকে শান্তভাবে প্রকাশ করা যায়।

🔹 ১. তত্ত্বের মূল বক্তব্য (Main Idea):
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসকে গঠন করা হয়েছিল যাতে জনমতের চাপ ও ক্ষোভ সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত পথে প্রবাহিত হয়। এটি ব্রিটিশদের জন্য একটি ‘নিরাপদ চ্যানেল’ হিসেবে কাজ করত, যাতে বিপ্লবী বা সক্রিয় প্রতিরোধ আন্দোলন কমানো যায়।

🔹 ২. প্রেক্ষাপট (Historical Context):
১৮৮৫ সালে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় ব্রিটিশ সরকার মনে করেছিল যে, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও বুদ্ধিজীবীদের রাজনৈতিক চাহিদা মেটাতে কংগ্রেস কার্যকর। এর মাধ্যমে তারা বিপ্লবী ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করেছিল।

🔹 ৩. সমালোচনা ও বাস্তবতা (Criticism and Reality):
কিন্তু কংগ্রেস ধীরে ধীরে স্বাধীনতা আন্দোলনের শক্তিশালী আন্দোলনশীল শক্তি হয়ে ওঠে। ফলে সেফটি ভালভ তত্ত্ব কেবল প্রাথমিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল এবং কংগ্রেস স্বাধীন রাজনীতির দিকে অগ্রসর হয়।

🔹 ৪. ঐতিহাসিক গুরুত্ব (Historical Significance):
এই তত্ত্ব দেখায় কিভাবে ব্রিটিশরা ভারতীয় রাজনৈতিক চাপকে নিয়ন্ত্রণ ও সীমাবদ্ধ করার কৌশল ব্যবহার করেছিল। পরবর্তীকালে কংগ্রেস নিজস্ব রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য অর্জন করে স্বাধীনতা সংগ্রামের মুখ্য চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

উপসংহার:
সুতরাং, ভারতের জাতীয় কংগ্রেসকে প্রাথমিকভাবে ‘সেফটি ভালভ’ বলা হয়েছিল, কিন্তু এটি সময়ের সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রাণশক্তিতে পরিণত হয়।

📝 ৭. ভারত সভা বা ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কার্যাবলি বা পদক্ষেপগুলি উল্লেখ করো।

অথবা, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভারত সভার প্রতিবাদ আন্দোলনগুলি উল্লেখ করো।

উত্তর:
ভারত সভা (Indian Association) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে, মূলত ভারতীয় জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও জাতীয় চেতনা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এর নেতৃত্বে এই সংস্থা ব্রিটিশ শাসনের নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে।

🔹 ১. রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি (Raising Political Awareness):
ভারত সভা শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও সাধারণ জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও জাতীয় চেতনা ছড়িয়ে দেয়। ব্রিটিশ সরকারের নীতির অসঙ্গতি ও দেশের রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে জনমত গঠন করে।

🔹 ২. প্রতিবাদ আন্দোলন (Protest Movements):
সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভারত সভা সরকারের বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। তারা ভোগ্যপণ্যের কর বৃদ্ধি, বঙ্গভঙ্গ নীতি, ও অন্যান্য শাসন নীতির বিরুদ্ধে জনসম্মেলন ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায়।

🔹 ৩. প্রভাবশালী আন্দোলন (Influential Actions):
ভারত সভা আইনসভায় নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রার্থনা করত। এটি ব্রিটিশ প্রশাসনের নজরে আসে এবং ভোট ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় ভারতীয়দের অংশগ্রহণ বাড়ায়।

🔹 ৪. ঐতিহাসিক গুরুত্ব (Historical Significance):
ভারত সভা ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে কংগ্রেসের পূর্বসূরী হিসেবে বিবেচিত। এটি শিক্ষিত ও রাজনৈতিক সচেতন জনগণকে একত্রিত করে স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করে।

উপসংহার:
সুতরাং, ভারত সভা বা ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন শিক্ষিত জনগণকে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সচেতন করে, বিভিন্ন প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

️প্রশ্নের মান-৮

📝 ১. ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সংগ্রামশীল জাতীয়তাবাদের উন্মেষের কারণগুলি সম্পর্কে লেখো।

অথবা, ভারতে চরমপন্থী রাজনীতির উদ্ভবের কারণগুলি আলোচনা করো।

উত্তর:
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ১৯ শতকের শেষভাগে চরমপন্থী বা সংগ্রামশীল জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটেছিল। এটি মূলত ব্রিটিশ শাসনের অতিরিক্ত নিপীড়ন, সামাজিক–অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং রাজনৈতিক সচেতনতার বৃদ্ধির ফল। চরমপন্থীরা স্বাধীনতা লাভের জন্য শান্তিপ্রিয় নীতি থেকে সরাসরি প্রতিরোধমূলক ও রেডিকাল পদ্ধতিতে যাত্রা শুরু করেন।

১. ব্রিটিশ শাসনের অত্যাচার: ব্রিটিশ শাসন দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও শিল্পে প্রবল ক্ষতি সাধন করেছিল। ভারতের কৃষক, শ্রমিক ও ছোট ব্যবসায়ীরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছিল। সরকারের কর্তৃত্ব ও স্থানীয় নেতৃত্বের উপেক্ষা চরমপন্থী চিন্তার জন্ম দেয়।

২. অর্থনৈতিক দমন ও দুর্ভিক্ষ: ১৮৫৭-এর বিপ্লব পরবর্তী সময়ে ভারতীয় কৃষক ও শ্রমজীবীরা কঠোর শুল্ক ও কর বোঝা বহন করছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ভিক্ষের সময় ব্রিটিশ প্রশাসন যথাযথ সহায়তা প্রদান করত না। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে রোষ ও প্রতিরোধের মনোভাব সৃষ্টি হয়।

৩. শিক্ষা ও রাজনৈতিক সচেতনতা: আধুনিক শিক্ষা, সংবাদপত্র ও পত্রিকা মুসলিম ও হিন্দু যুবকদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করেছিল। শিক্ষিত তরুণ সমাজ ব্রিটিশ শাসনের অবিচার ও স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে শুরু করে। এ কারণে চরমপন্থী নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন বাড়ে।

৪. প্রথাগত কংগ্রেস নীতি ও অসন্তুষ্টি: কংগ্রেসের প্রাথমিক নেতৃত্ব মূলত শান্তিপ্রিয় ও সমঝোতাপ্রবণ নীতি অনুসরণ করছিল। কিছু যুবা নেতা মনে করত, এই নীতিতে ব্রিটিশ শাসকের প্রতি প্রভাব ফেলা সম্ভব নয়। তারা সরাসরি সংগ্রাম, বয়কট ও প্রতিবাদমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।

৫. জাতীয় চেতনার উন্মেষ: ব্রিটিশ নিপীড়ন ও সামাজিক–অর্থনৈতিক বৈষম্য জাতীয় চেতনা জাগিয়ে তোলে। মানুষ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করার প্রয়োজন অনুভব করে। এ চেতনা চরমপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করে।

৬. বিদেশি বিপ্লবী প্রভাব: ইউরোপ ও এশিয়ার বিপ্লবী আন্দোলন ও আইডিয়োলজি ভারতীয় যুবকদের অনুপ্রাণিত করে। রাশিয়ান বিপ্লব ও ফরাসি বিপ্লবের চেতনা ভারতীয় যুবা আন্দোলনকারীদের মধ্যে পৌঁছায়। এ কারণে সরাসরি সংগ্রামের পদ্ধতি গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

৭. সামরিক বিদ্রোহ ও পূর্ব অভিজ্ঞতা: ১৮৫৭-এর প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি তরুণ প্রজন্মকে প্রভাবিত করে। ব্রিটিশদের অবিচার ও নির্যাতন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জাতীয় চেতনা বহন করে। এটি চরমপন্থী আন্দোলনের জন্য একটি শক্তিশালী উদ্দীপনা প্রদান করে।

৮. সাংবাদিকতা ও প্রকাশনার ভূমিকা: সংবাদপত্র, পত্রিকা ও প্রকাশনা আন্দোলনকে সক্রিয় ও চরমপন্থী প্রবর্তকদের সঙ্গে জনগণকে সংযুক্ত করে। শিক্ষিত ও সচেতন জনগণ এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হতে শুরু করে। চরমপন্থী রাজনীতির উদ্ভবের জন্য এটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে।

উপসংহার:
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে চরমপন্থী জাতীয়তাবাদের উন্মেষ মূলত ব্রিটিশ শাসনের অবিচার, অর্থনৈতিক দমন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতার বৃদ্ধির কারণে ঘটে। এটি সরাসরি স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম চালানোর প্রবণতা জাগায় এবং পরবর্তীকালে ভারতীয় রাজনীতিতে একটি নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

📝 ২. ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম কুড়ি বছরের কার্যাবলির মূল্যায়ণ করো।

অথবা, ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কংগ্রেসের চরমপন্থীদের দাবিগুলির পরিচয় দাও।

উত্তর:
জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর প্রথম কুড়ি বছর ছিল রাজনৈতিক সচেতনতা ও নীতি নির্ধারণের একটি প্রাথমিক সময়কাল। এই সময়ে কংগ্রেস মূলত শান্তিপ্রিয় ও সংবিধানমুখী আন্দোলন চালিয়েছে, যা ব্রিটিশ সরকারের কাছে ভারতীয় জনগণের অভ্যন্তরীণ সমস্যার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করে। তবে ১৯০৫ সালের পরে কংগ্রেসের মধ্যে চরমপন্থী বা সংগ্রামশীল গোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে।

১. প্রারম্ভিক কার্যাবলি: কংগ্রেস প্রথমদিকে ব্রিটিশ সরকারের নীতিতে সংস্কারের জন্য পত্রলিখন, স্মারকলিপি এবং সভার মাধ্যমে অনুরোধ করে। তারা শান্তিপূর্ণ ও আইনসঙ্গত পদ্ধতিতে জনগণের দাবি তুলে ধরার চেষ্টা করত। কংগ্রেসের এই প্রাথমিক কার্যাবলির ফলে রাজনৈতিক সচেতনতা ও শিক্ষিত মধ্যবিত্তের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়।

২. শান্তিপ্রিয় নীতি: প্রথম কুড়ি বছরে কংগ্রেসের নেতা সাধারণত চরমপন্থী প্রবর্তন এড়িয়ে চলেন। তারা আলোচনা, সমাবেশ ও সংলাপের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার উপর জোর দেন। এতে ব্রিটিশ প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়ানো যায় এবং কংগ্রেস ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হয়।

৩. চরমপন্থীদের আবির্ভাব: ১৯০৫ সালের পরে কংগ্রেসে যুবা নেতা ও চরমপন্থীরা সক্রিয় হন। তারা ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিরোধ ও বয়কট, হরতাল এবং আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার দাবিতে জোর দিতে শুরু করে। চরমপন্থীরা মনে করতেন, শান্তিপ্রিয় নীতি যথেষ্ট কার্যকর নয়।

৪. চরমপন্থীদের দাবির পরিচয়: এই সময়ে তারা স্বাধীন ভারত, ব্রিটিশ প্রশাসন থেকে স্বাধীনতা, আইনগত বৈষম্য দূরীকরণ, এবং ভারতের সম্পদ ও রাজস্বে ন্যায্য অংশ দাবী করত। তারা কৃষক ও শ্রমজীবীদের স্বার্থ রক্ষা এবং শিক্ষা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সম্প্রসারণেও জোর দেয়। চরমপন্থীরা মনে করতেন, ভারতীয় জনগণকে শোষণ থেকে রক্ষা করতে শক্তিশালী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

৫. জাতীয় চেতনার প্রসার: কংগ্রেসের শান্তিপ্রিয় কার্যাবলি এবং চরমপন্থীদের দাবি মিলিত হয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে জাতীয় চেতনাকে জাগ্রত করে। শিক্ষিত ও সচেতন মধ্যবিত্তের সঙ্গে কৃষক ও শ্রমজীবীদের সমর্থন বৃদ্ধি পায়। এতে কংগ্রেস একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

৬. সংগঠনের শক্তি: প্রথম কুড়ি বছরে কংগ্রেস কমিটিগুলি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সমিতি ও জেলা স্তরের সভার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করা হয়। এই কার্যক্রম ভবিষ্যতের রাজনৈতিক আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে।

৭. সাংবাদিকতা ও প্রকাশনার ভূমিকা: সংবাদপত্র ও পত্রিকা কংগ্রেসের কার্যাবলিকে সমর্থন প্রদান করে। চরমপন্থীদের দাবিকে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেয়। এটি রাজনৈতিক সচেতনতা ও চরমপন্থী আন্দোলনের প্রসার ঘটায়।

৮. মূল্যায়ন: প্রথম কুড়ি বছরে কংগ্রেসের কার্যাবলি ধাপে ধাপে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিস্তার করে। শান্তিপ্রিয় নীতি ও চরমপন্থীর চাহিদার মিলিত প্রভাবে ভারতীয় জনগণ রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয়। এটি পরবর্তী স্বাধীনতা আন্দোলনের শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করে।

উপসংহার:
জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম কুড়ি বছর ছিল ভারতীয় রাজনীতিতে একটি প্রাথমিক ও শিক্ষণীয় সময়কাল। শান্তিপ্রিয় নীতি ও চরমপন্থীর দাবির সংমিশ্রণে কংগ্রেস ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

📝 ৩. ১৯০৫–১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বাংলার বিপ্লবী আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা করো।

অথবা, বঙ্গের বিপ্লববাদী আন্দোলনের বর্ণনা দাও।

অথবা, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত বাংলার বিপ্লবী কর্মসূচির পরিচয় দাও।

উত্তর:
১৯০৫–১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বাংলায় বিপ্লবী আন্দোলন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি ব্রিটিশ শাসনের বিরোধিতা, দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক সচেতনতার জাগরণের ফল। আন্দোলনটি মূলত চরমপন্থী যুবক এবং সংগঠিত বিপ্লবীদের উদ্যোগে পরিচালিত হয়।

১. স্বরাজ্য ও স্বদেশপ্রেমের উদ্ভব: ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের দ্বারা কার্যকর হওয়ায় বাংলার জনগণে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। যুবক নেতারা মনে করতেন, দেশের বিভাজন দেশপ্রেমের জন্য একটি গুরুতর আঘাত। ফলে বিপ্লবী সংগঠন এবং শিক্ষিত যুব সমাজ স্বরাজ্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সক্রিয় হয়।

২. সংগঠিত বিপ্লবী গোষ্ঠীর উদ্ভব: এই সময়ে বিভিন্ন বিপ্লবী সংগঠন, যেমন আনন্দমঠ, বাঙালি যুবক সংঘ, ইয়ং বেঙ্গল, গঠিত হয়। তারা গোপনে অস্ত্র সংগ্রহ, ঘাতক পরিকল্পনা এবং ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালায়। সংগঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপ্লবীদের মধ্যে একাত্মতা ও পরিকল্পনামূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

৩. সাংবাদিকতা ও প্রকাশনা কার্যক্রম: বিপ্লবীরা পত্রিকা ও প্রকাশনার মাধ্যমে জনগণকে ব্রিটিশ শাসনের অবিচার সম্পর্কে সচেতন করতে চেষ্টা করে। বিপ্লবী পত্রিকা যেমন ভারতী, আনন্দবাজার যুব সমাজের মধ্যে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও প্রতিরোধের চেতনা বৃদ্ধি করে। এ উদ্যোগ বিপ্লবী আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রভাবকে বিস্তৃত করে।

৪. ব্রিটিশ শাসনের হুমকি ও দমননীতি: বিপ্লবী কার্যক্রমের কারণে ব্রিটিশ সরকার সিকিউরিটি আইন, রা‌জস্ব চেষ্টার কঠোর পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক দমন চালায়। বিপ্লবীদের গ্রেপ্তার, বন্দি রাখা ও মৃত্যু শাস্তি প্রদানের ঘটনা সাধারণ ছিল। তবে এই কঠোরতা বিপ্লবীদের উদ্যমকে শক্তিশালী করে।

৫. ঘাতক এবং সশস্ত্র আন্দোলন: যুবক বিপ্লবীরা ব্রিটিশ আধিকারিকদের হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র সংগ্রহের মাধ্যমে সরাসরি সংগ্রামে জড়িত হয়। তারা মনে করত, শান্তিপ্রিয় নীতি যথেষ্ট নয় এবং স্বরাজ্য অর্জনের জন্য তীব্র পদক্ষেপ প্রয়োজন। এ ধরনের কার্যক্রম দেশব্যাপী আতঙ্ক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে।

৬. প্রভাব ও জনমত: বিপ্লবীদের কার্যক্রম সাধারণ জনগণের মধ্যে দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার চেতনা জাগ্রত করে। শহর ও গ্রামাঞ্চলে যুব সমাজ সক্রিয় হয়ে ওঠে। শিক্ষিত ও সচেতন জনগণ আন্দোলনের সাথে যুক্ত হতে শুরু করে।

৭. বিদেশি বিপ্লবী প্রভাব: ইউরোপ ও রাশিয়ার বিপ্লবী আন্দোলনের প্রভাব বাংলার যুবকদের মধ্যে পৌঁছে। বিদেশি বিপ্লবীদের আইডিয়োলজি ও কৌশল শিখে বিপ্লবীরা তাদের কার্যক্রমকে আরও সংগঠিত ও কার্যকর করে। এটি আন্দোলনের আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করে।

৮. দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব: ১৯০৫–১৯১৫ সালের বিপ্লবী আন্দোলন পরবর্তীকালে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে। বিপ্লবীরা যে আত্মত্যাগ ও সাহস প্রদর্শন করে তা সাধারণ জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও জাতীয় চেতনা জাগায়। এই সময়কাল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে চরমপন্থী আন্দোলনের স্বর্ণযুগ হিসেবে পরিচিত।

উপসংহার:
বাংলার ১৯০৫–১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের বিপ্লবী আন্দোলন স্বাধীনতার লক্ষ্যে যুবক ও শিক্ষিত সমাজকে সংগঠিত করেছে। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিরোধ ও চরমপন্থী পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক চেতনার বিকাশে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে।

<<<<<<<<<<<<<<<<🌹সমাপ্ত🌹>>>>>>>>>>> 

👉For pdf whatsapp-8250978714

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.