🌹উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রশ্নোত্তর(সেমিষ্টার-৪)::হলুদ পোড়া-মানিক বন্দোপাধ্যায়।।🌹


️প্রশ্নের মান-৫:

📝১.“হলুদ পোড়া” গল্পে গ্রামবাংলার সমাজচিত্র কীভাবে ফুটে উঠেছে, তা আলোচনা করো।

অথবা, “একটুখানি বাস্তব সত্যের, খাদের অভাবে নানা জনের কল্পনা ও অনুমানগুলি গুজব হয়ে উঠতে উঠতে মুষড়ে যায়।- এই বক্তব্য থেকে গ্রাম সমাজের কোন্ জীবনসত্যের প্রকাশ ঘটেছে, বুঝিয়ে দাও। 

অথবা, “হলুদ পোড়া“ গল্পটির বিষয়বস্তু আলোচনা করে নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

অথবা, ছোটগল্প হিসেবে “হলুদ পোড়া” গল্পটির কতখানি সার্থক তার আলোচনা করো। 

✅উত্তর: 

প্রাককথন: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখায় ফ্রয়েডের মনোবিজ্ঞান এবং মার্কসের সামাজিক তত্ত্বের প্রভাব দেখা যায়। তিনি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে মানুষের জীবন ও সমাজকে খুব স্পষ্টভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। ‘হলুদ পোড়া’ গল্পও তার ব্যতিক্রম নয়।
সমাজচিত্রের বিশ্লেষণ: গল্পে গ্রামে দু’টি মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে মানুষের কুসংস্কার, কৌতূহল এবং সন্দেহপ্রবণ চরিত্র ফুটে উঠেছে। বলাই চক্রবর্তী ও শুভ্রার মৃত্যুতে গ্রামবাসী হতবাক হলেও কলঙ্কিত পুরুষের মৃত্যু তারা কাম্য মনে করেছে। শুভ্রা শান্তশিষ্ট ও সংস্কারপরায়ণ হলেও তার মৃত্যুর কারণ জানতে গ্রামের মানুষ উৎসাহী। এক বয়স্ক পুরুষ, নব্যবিবাহিতা ও অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর খুনের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করতে না পেরে গ্রামবাসী ছটফট করে।

নবীনের স্ত্রী দামিনীর অস্বাভাবিক আচরণকে গ্রামের মানুষ ভূতের সঙ্গে যুক্ত করে। ধীরেন ও ডাক্তার ডাকলেও, অধিকাংশ গ্রামবাসী ওঝা ডাকার পক্ষে থাকে। মেয়েদের ওপর নানা বিধিনিষেধ থাকায় তারা হাইস্টেরিয়ার শিকার হয়। কুসংস্কার-ব্যবসায়ী কুঞ্জের কার্যকলাপও গ্রামের জীবনের অংশ। কিছু মানুষ বিজ্ঞানমনস্ক ধীরেনকে মান্যতা দেয় না। খুনজখম, বিবাদ ও ভূতের কাহিনি গ্রামের মানুষদের কৌতূহল বাড়ায়। কুঞ্জ ওঝা দামিনীর শরীরে প্রেতাত্মা শুভ্রা দেখানোর মাধ্যমে গ্রামবাসীর কৌতূহল পূর্ণ হয়।

উপসংহার: গল্পে গ্রামীণ সমাজে প্রচলিত পুরনো সংস্কার, কুসংস্কার, নিষ্ঠুরতা ও অবদমন সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখনী গ্রামীণ মানুষের স্বার্থপর ও বিবেকহীন মানসিকতার ওপর তীব্র প্রভাব ফেলে। তাই এই ছোটগল্পটির নামকরণ সার্থক হয়েছে। 


Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.